০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র রুনা লায়লাকে ‘বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান কক্সবাজার স্মার্ট সিটি করার মেগা পরিকল্পনা তৈরী হবে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও হাব। ধানের শীষের বড় জয় বিএনপি ক্ষমতার রাষ্ট্র ক্ষমতার পথে। আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিরনিদ্রায় সমাপ্তি জাপান-বাংলাদেশ সহযোগিতা কার্বন বাজার প্রস্তুতি। বাংলাদেশ ও কুয়েত: সেনাপ্রধান এবং সহ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয় জরুরী ৯৯৯ সেবা পরিদর্শনে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বিপিআই-এর জ্বালানি প্রশিক্ষণ গবেষণা খাতে সমঝোতা স্বাক্ষর তিস্তার মশাল প্রজ্বালনে ১০৫ কিঃমিঃ জুড়ে বিএনপির আয়োজন। সুমাইয়া হারুন: মিস মাল্টিন্যাশনাল বিশ্ব মঞ্চে নতুন দিগন্ত।

সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র রুনা লায়লাকে ‘বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান

ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৩০২৮ বার পড়া হয়েছে

Photo Credit : Ministry of Cultural Affairs /artist Runa Laila

বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের একটা সত্যি গর্ব বলা যায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত “রুনা লায়লা সম্মাননা ও একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান” এ তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে এমন একটা ব্যতিক্রমধর্মী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি, যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি আর মানবিক মূল্যবোধের এক অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধনও দেখা যায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের সঙ্গীত পথচলায় দেশ বিদেশে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী, নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট মানুষ, আর সংগীতপ্রেমীরা মিলিয়ে পুরো মিলনায়তনটা উৎসবের মত হয়ে ওঠে, একেবারে জমে ওঠে পরিবেশটা।

রাষ্ট্রীয় অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজন

অনুষ্ঠানের আসল আকর্ষণ ছিল সম্মাননা স্মারক প্রদান পর্ব, যেখানে স্টেজ আর দর্শক—দুই দিক মিলিয়ে বেশ আমেজ চলছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে রুনা লায়লার হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। তখন তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার পেছনে রুনা লায়লার ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

শিল্পী নিজের কণ্ঠ, নিষ্ঠা আর শিল্পচর্চার মাধ্যমে একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রুনা লায়লা এমনই বিরল মানুষ, যিনি বাংলাদেশের সংগীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন অনেকটা নিশ্চিত ভাবে।

সম্মাননা প্রদান শেষ হলেই একটু একটু করে জমে ওঠে রুনা লায়লার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান, যেখানে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি যেন আরও ঘন হয়ে যায়। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে একের পর এক জনপ্রিয় গান—আর তারপরই পুরো মিলনায়তন জুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ, সবাই যেন হঠাৎ করেই শিল্পীর সুরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিখুঁত কণ্ঠস্বর আর অসাধারণ পরিবেশনা দক্ষতা বার বার দেখিয়ে দেয় কেন তাঁকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা বলেন রুনা লায়লার গান শুধু বিনোদনের একটা মাধ্যম নয় বরং ধরা যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি অনুভূতি আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা এক ধারার মতো। তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা ছিল আবেগে ভরা, আবার পরিমিত ছন্দে সাজানো, এক ধরনের শিল্পসত্তার নিজস্ব প্রকাশও বলা যায়।

তরুণ শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের জন্যও এই অনুষ্ঠান একদম অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো ছিল। তাঁদের মতে এমন আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করবে, আর বরেণ্য শিল্পীদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেবে, এতে সন্দেহ নেই।

মানবিক উদ্যোগে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

অনুষ্ঠানের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এর মানুষকে কেন্দ্র করে রাখা উদ্দেশ্যটা। আয়োজকরা জানান, “রুনা লায়লা সম্মাননা ও একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান”-এর টিকিট বিক্রয় থেকে যে সম্পূর্ণ অর্থ আসবে, সেটা বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়া হবে। সংস্কৃতি আর মানবসেবার এই মিশেল দেখে উপস্থিত অতিথি, আর দর্শক—সবাই একরকম প্রশংসা করতে শুরু করে। অনেকের মনে হয়, শিল্পের চর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বের এমন তৎপরতা সমাজে একধরনের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে, আর বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে অন্যদেরও প্রেরণা যোগায়।

আরও পড়ুন- তাসরিফ খানের স্বপ্নের প্রকল্প:ব্যতিক্রমী উদ্দ্যেগ কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানটা যেন এক অনন্য মিলনমেলা—সম্মাননা, সংগীত আর মানবিকতার চলে এসেছে। একদিকে দেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার অসাধারণ অবদানের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, আর অন্যদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগটা এই আয়োজনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। উপস্থিত অতিথি, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং দর্শকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটা স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন। একই সঙ্গে এমন ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও দেশের গুণী শিল্পীদের যথাযথ সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত করবে—এমনও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র রুনা লায়লাকে ‘বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের একটা সত্যি গর্ব বলা যায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত “রুনা লায়লা সম্মাননা ও একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান” এ তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে এমন একটা ব্যতিক্রমধর্মী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি, যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি আর মানবিক মূল্যবোধের এক অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধনও দেখা যায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের সঙ্গীত পথচলায় দেশ বিদেশে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী, নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট মানুষ, আর সংগীতপ্রেমীরা মিলিয়ে পুরো মিলনায়তনটা উৎসবের মত হয়ে ওঠে, একেবারে জমে ওঠে পরিবেশটা।

রাষ্ট্রীয় অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজন

অনুষ্ঠানের আসল আকর্ষণ ছিল সম্মাননা স্মারক প্রদান পর্ব, যেখানে স্টেজ আর দর্শক—দুই দিক মিলিয়ে বেশ আমেজ চলছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে রুনা লায়লার হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। তখন তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার পেছনে রুনা লায়লার ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

শিল্পী নিজের কণ্ঠ, নিষ্ঠা আর শিল্পচর্চার মাধ্যমে একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রুনা লায়লা এমনই বিরল মানুষ, যিনি বাংলাদেশের সংগীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন অনেকটা নিশ্চিত ভাবে।

সম্মাননা প্রদান শেষ হলেই একটু একটু করে জমে ওঠে রুনা লায়লার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান, যেখানে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি যেন আরও ঘন হয়ে যায়। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে একের পর এক জনপ্রিয় গান—আর তারপরই পুরো মিলনায়তন জুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ, সবাই যেন হঠাৎ করেই শিল্পীর সুরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিখুঁত কণ্ঠস্বর আর অসাধারণ পরিবেশনা দক্ষতা বার বার দেখিয়ে দেয় কেন তাঁকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা বলেন রুনা লায়লার গান শুধু বিনোদনের একটা মাধ্যম নয় বরং ধরা যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি অনুভূতি আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা এক ধারার মতো। তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা ছিল আবেগে ভরা, আবার পরিমিত ছন্দে সাজানো, এক ধরনের শিল্পসত্তার নিজস্ব প্রকাশও বলা যায়।

তরুণ শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের জন্যও এই অনুষ্ঠান একদম অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো ছিল। তাঁদের মতে এমন আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করবে, আর বরেণ্য শিল্পীদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেবে, এতে সন্দেহ নেই।

মানবিক উদ্যোগে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

অনুষ্ঠানের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এর মানুষকে কেন্দ্র করে রাখা উদ্দেশ্যটা। আয়োজকরা জানান, “রুনা লায়লা সম্মাননা ও একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান”-এর টিকিট বিক্রয় থেকে যে সম্পূর্ণ অর্থ আসবে, সেটা বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়া হবে। সংস্কৃতি আর মানবসেবার এই মিশেল দেখে উপস্থিত অতিথি, আর দর্শক—সবাই একরকম প্রশংসা করতে শুরু করে। অনেকের মনে হয়, শিল্পের চর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বের এমন তৎপরতা সমাজে একধরনের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে, আর বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে অন্যদেরও প্রেরণা যোগায়।

আরও পড়ুন- তাসরিফ খানের স্বপ্নের প্রকল্প:ব্যতিক্রমী উদ্দ্যেগ কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানটা যেন এক অনন্য মিলনমেলা—সম্মাননা, সংগীত আর মানবিকতার চলে এসেছে। একদিকে দেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার অসাধারণ অবদানের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, আর অন্যদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগটা এই আয়োজনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। উপস্থিত অতিথি, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং দর্শকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটা স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন। একই সঙ্গে এমন ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও দেশের গুণী শিল্পীদের যথাযথ সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত করবে—এমনও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।