কক্সবাজার স্মার্ট সিটি করার মেগা পরিকল্পনা তৈরী হবে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও হাব।
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ৩০৫০ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার স্মার্ট সিটি মেগা পরিকল্পনা হিসেবে এক যুগান্তকারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিশ্বের দীর্ঘতম ও অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার কক্সবাজার বালুকাময় সমুদ্র সৈকতকে একটি পূর্ণাঙ্গ, সর্বাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে।
নতুন এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে ইকো-ট্যুরিজম মডেল অনুসরণ, অত্যাধুনিক অবকাঠামো তৈরি এবং পুরো জেলাকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্বমানের ‘কক্সবাজার স্মার্ট সিটি’ গড়ে তোলার বিষয়ে নীতিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের ঐতিহ্যবাহী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কক্সবাজার পর্যটন খাতসহ জেলার সার্বিক ও ভবিষ্যৎ সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা উঠে আসে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নীতি-নির্ধারণী ও কৌশলগত সভায় পর্যটন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং পরিবেশসহ রাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকবৃন্দ একযোগে উপস্থিত থেকে একটি টেকসই কর্মপন্থা নির্ধারণে আলোচনা করেন।
Table of this Contents
কক্সবাজার স্মার্ট সিটি হবে পর্যটন হাব ও ইকো-ট্যুরিজম মডেল:
সভার শুরুতেই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার কেবল বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ নয়, বরং এটি পুরো বিশ্বের কাছে এক অপূর্ব বৈশ্বিক আকর্ষণ। আমাদের প্রধান ও মূল লক্ষ্য হলো এই অনন্য সমুদ্র শহরটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ, বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিনত করা।”
তিনি তাঁর বক্তব্যে সরকারের নেওয়া একাধিক প্রাথমিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানান যে, এই মেগা লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর অবকাঠামোগত মানোন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রসারের গতিতে প্রাকৃতিক সম্পদ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “পর্যটন শিল্পের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে গিয়ে আমরা প্রকৃতি ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। সেই লক্ষ্যেই কক্সবাজারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা কঠোরভাবে কক্সবাজার স্মার্ট সিটি ‘ইকো-ট্যুরিজম’ (Eco-Tourism) মডেল অনুসরণ করার ওপর জোর দিচ্ছি।” একই সাথে পর্যটন হাব হিসেবে কক্সবাজারকে বৈশ্বিক মানচিত্রে একটি সুদৃঢ় ও সম্মানজনক আসনে নিয়ে যেতে সরকারের সকল দপ্তর, বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কক্সবাজার স্মার্ট সিটি হবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পর্যটকদের পদচারণা:
কক্সবাজারের সাথে বৈশ্বিক সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানিয়ে পর্যটন মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিগগিরই বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নতুন ও সর্বাধুনিক এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেলে বিশ্বমানের এয়ারলাইনসগুলো সরাসরি কক্সবাজারে অবতরণ করতে পারবে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিদেশী পর্যটকদের আগমন একলাফে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের পর্যটনভিত্তিক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
কক্সবাজার স্মার্ট সিটি আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান, মেরিন ড্রাইভ ও ব্লু ইকোলজি:
পর্যটন মন্ত্রীর উত্থাপিত বিশদ প্রস্তাবনা ও মহাপরিকল্পনার সাথে পুরোপুরি একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সভায় আশ্বাস দিয়ে জানান, কক্সবাজার স্মার্ট সিটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবের চাহিদা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে কক্সবাজারের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন, দূরদর্শী ও বিশ্বমানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বা মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
প্রস্তাবিত এই নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় কক্সবাজারকে সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক ও বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটননগরী হিসেবে রূপ দেওয়া হবে। সভার আলোচনায় উঠে আসে কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কথা।
এই দীর্ঘ সমুদ্রসড়কজুড়ে ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্য নান্দনিক সুবিধা সংবলিত একাধিক ‘ভিজিটরস পয়েন্ট’ (Visitors Point) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পর্যটন শিল্পের সাথে সমন্বিত করতে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ব্লু ইকোনমি ইউনিভার্সিটি’ (Blue Economy University) স্থাপনের বিষয়েও দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার স্মার্ট সিটি তৈরির স্পষ্ট নির্দেশনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ :
সভার শেষ পর্যায়ে সভাপতি ও অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত সকল অংশীজন ও মন্ত্রণালয়গুলোর গঠনমূলক প্রস্তাবনাসমূহকে দ্রুত একত্রিত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন শুধু আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চিত্রই বদলে দেবে না, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন –কক্সবাজার জেলার পরিচিতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে অতি দ্রুত উপস্থিত অংশীজনদের সব প্রস্তাব সংবলিত একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে প্রযুক্তিভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘কক্সবাজার স্মার্ট সিটি’ তৈরির আনুষ্ঠানিক মাস্টারপ্ল্যানের মূল কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।









